ইনহেলার ব্যবহার করলে কি রোজা ভেঙে যায়?
প্রশ্ন: আমি গত কয়েক বছর ধরে তীব্র শ্বাসকষ্টে ভুগছি। প্রতিদিন নিয়ম করে আমাকে চারবার ইনহেলার নিতে হয়। রমজান মাস এলে আমি খুব বিপাকে পড়ে যাই। গত বছর চেষ্টা করেছিলাম সাহরি ও ইফতারে ইনহেলার নিয়ে পুরো দিন পার করতে, কিন্তু দুপুরের পর শ্বাসকষ্ট এতটাই বেড়ে যায় যে ইনহেলার না নিলে দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। এমতাবস্থায় ডাক্তার আমাকে দিনেও ইনহেলার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। এখন আমার মনে প্রশ্ন জেগেছে, জীবন রক্ষার্থে দিনে ইনহেলার ব্যবহার করলে কি আমার রোজা ভেঙে যাবে? আর যদি রোজা ভেঙে যায়, তবে কি আমাকে এর জন্য কাফফারা দিতে হবে নাকি অন্য কোনো উপায় আছে?
উত্তর: রোজা অবস্থায় ইনহেলার ব্যবহার করলে রোজা ভেঙে যায়। কারণ ইনহেলারের মাধ্যমে ওষুধের কিছু অংশ খাদ্যনালী দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে। তাই যদি সাহরির শেষ সময়ে এবং ইফতারের পর ইনহেলার ব্যবহার করে দিন পার করা সম্ভব হয়, তবে রোজা অবস্থায় ইনহেলার ব্যবহার থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। কিন্তু শ্বাসকষ্ট যদি তীব্র হয় এবং দিনের বেলা ইনহেলার ব্যবহার করা অতি জরুরি হয়ে পড়ে, তবে অসুস্থতার কারণে আপনি তা ব্যবহার করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে আপনার জন্য শরীয়তের বিধান হলো:
১. রোজা অবস্থায় ইনহেলার ব্যবহার করলেও রোজার সম্মানে দিনের বাকি সময় অন্যান্য পানাহার থেকে বিরত থাকতে হবে।
২. এই রোজার পরিবর্তে পরবর্তীতে কোনো এক সময় একটি কাযা রোজা পালন করতে হবে। এক্ষেত্রে কাফফারা বা ৬০টি রোজা রাখা জরুরি নয়।
৩. তবে যদি আপনার এই রোগটি স্থায়ী হয় এবং ভবিষ্যতে কখনো রোজা কাযা করার মতো সুস্থতা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকে, তবে প্রতিটি রোজার পরিবর্তে যাকাতের উপযুক্ত কোনো গরিব মানুষকে দুই বেলা খাবার অথবা এর সমপরিমাণ মূল্য 'ফিদয়া' হিসেবে দান করে দেবেন। কোরআনে কারীমে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন,
وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ
আর যাদের রোযা রাখা অত্যন্ত কষ্টকর তারা ফিদয়া-একজন মিসকীনকে খাবার প্রদান করবে।-সূরা বাকারা : ১৮৪;
রেফারেন্স:
-সূরা বাকারা (২) : ১৮৪; মাজমাউল আনহুর ১/৩৬৬; রদ্দুল মুহতার ২/৩৯৫; মাজাল্লা মাজমাউল ফিকহিল ইসলামী, সংখ্যা : ১০, ২/৩১-৬৫, আলমুহীতুলবুরহানী৩/৩৬১; ফাতাওয়াহিন্দিয়া১/২০৭