FatwaBD logoFatwa.BD
লেনদেন ও ব্যবসাউত্তর দেওয়া হয়েছেফতওয়া #১৫

নগদ ও বাকিতে ভিন্ন মূল্যে পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের শরয়ী বিধান

১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬|১৮

প্রশ্ন: আমি একদিন একটি ইলেকট্রনিক শোরুমে একটি ফ্রিজ কিনতে গিয়েছিলাম। বিক্রেতা আমাকে বললেন, ‘আপনি যদি এই ফ্রিজটি এখন নগদে কেনেন, তবে দাম পড়বে ৫০,০০০ টাকা। আর যদি ছয় মাসের কিস্তিতে বা বাকিতে কেনেন, তবে দাম পড়বে ৫৫,০০০ টাকা।’ আমি তার সাথে আলোচনা করে ৫৫,০০০ টাকা মূল্যে ছয় মাসের বাকিতে ফ্রিজটি কেনার সিদ্ধান্ত নিলাম এবং ওখানেই মূল্য পরিশোধের সময়সীমা চূড়ান্ত করে ফ্রিজটি নিয়ে আসলাম। কিন্তু বাড়িতে আসার পর এক বন্ধু আমাকে বললেন, এক বিক্রয়ের মধ্যে দুই দাম নির্ধারণ করা নাকি হাদিসে নিষেধ করা হয়েছে এবং এটি সুদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। আমার মনে এখন প্রশ্ন জেগেছে, নগদ ও বাকিতে ভিন্ন ভিন্ন দাম নির্ধারণ করে কোনো পণ্য কেনা কি আসলেই নাজায়েয? এক্ষেত্রে হাদিসের সঠিক ব্যাখ্যা ও মাসআলাটি জানতে চাই।

M
মারকাযুদ দাওয়াহ আলইসলামিয়া, ঢাকা

উত্তর: আপনার উক্ত ক্রয়-বিক্রয়টি শরীয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ জায়েয ও সহিহ হয়েছে। নগদ মূল্যের চেয়ে বাকি মূল্যে পণ্য বেশি দামে বিক্রি করা সুদের অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং এটি ব্যবসার একটি স্বাভাবিক পদ্ধতি। হাদিস শরীফে 'এক বিক্রয়ের মধ্যে দুই বিক্রয়' (بيعتان في بيعة) বলতে যা নিষেধ করা হয়েছে, তার অর্থ হলো—বিক্রেতা নগদ ও বাকির দুটি ভিন্ন মূল্য প্রস্তাব করল, কিন্তু ক্রেতা কোনো একটি মূল্য চূড়ান্ত না করেই পণ্য নিয়ে চলে গেল। অর্থাৎ, লেনদেন শেষ হওয়ার সময়ও জানা গেল না যে পণ্যটি নগদে কেনা হলো নাকি বাকিতে। এই অস্পষ্টতা থাকলে কেবল তখনই সেই কেনাবেচা নাজায়েয হবে।

কিন্তু আপনার ক্ষেত্রে যেহেতু মজলিস ত্যাগ করার আগেই আপনি একটি মূল্য (৫৫,০০০ টাকা) এবং মূল্য পরিশোধের সময়সীমা (ছয় মাস) উভয় পক্ষ মিলে চূড়ান্ত করে নিয়েছেন, তাই এখানে আর কোনো অস্পষ্টতা বা জটিলতা অবশিষ্ট থাকেনি। সুতরাং এই পদ্ধতিটি জায়েয এবং এতে সুদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। 


রেফারেন্স:
–সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৫৯৬; আলমাবসূত, সারাখসী ১২/১১২; ফাতহুল বারী ৪/৪৪৭; ফাতহুল কাদীর ৬/১৫৫; আদ্দুররুল মুখতার ৪/৫৩১; রদ্দুল মুহতার ৫/১৭২