FatwaBD logoFatwa.BD
হালাল-হারামউত্তর দেওয়া হয়েছেফতওয়া #২৪

সঞ্চয়পত্র বা ব্যাংকের সুদের টাকা কোন খাতে ব্যয় করবেন?

২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬|৫৬

প্রশ্ন: আমার এক পরিচিত ব্যক্তি না বুঝে কিছু টাকা ব্যাংকে সঞ্চয়পত্র হিসেবে রেখেছিলেন। এখন তিনি ধর্মীয় আলোচনার মাধ্যমে জানতে পেরেছেন যে, সেখান থেকে পাওয়া অতিরিক্ত টাকা বা সুদের অংশটি ভোগ করা জঘন্য গুনাহের কাজ। তিনি এখন এই সুদের টাকা থেকে মুক্তি পেতে চান। আমাদের জানার বিষয় হলো, এই সুদের টাকা তিনি কোথায় বা কাকে দেবেন? এটি কি কোনো মসজিদ বা মাদরাসার উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা যাবে, নাকি শুধু গরিব মানুষকে দিতে হবে? এ বিষয়ে সঠিক শরয়ী সমাধানটি জানতে চাই।

M
মারকাযুদ দাওয়াহ আলইসলামিয়া, ঢাকা

উত্তর: সঞ্চয়পত্রের সুদ হোক বা ব্যাংকের সাধারণ সুদের টাকা—যেকোনো প্রকার সুদের টাকা নিজে ভোগ করা সম্পূর্ণ হারাম। এই টাকা থেকে দায়মুক্ত হওয়ার একমাত্র উপায় হলো, সওয়াবের নিয়ত ছাড়া এই টাকা যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত কোনো অভাবী বা গরিব ব্যক্তিকে সদকা করে দেওয়া। আপনি চাইলে সরাসরি নগদ টাকা গরিবের হাতে দিয়ে দিতে পারেন, অথবা তার জন্য প্রয়োজনীয় কোনো জিনিসপত্র কিনে দিতে পারেন। এমনকি কোনো দরিদ্র ব্যক্তির সম্মতিতে তার কোনো ঋণ পরিশোধের কাজেও এই টাকা ব্যয় করা যাবে।

উল্লেখ্য, কোনো কোনো ফকীহের মতে সুদ থেকে প্রাপ্ত টাকা জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করলেও সে দায়মুক্ত হয়ে যাবে। তবে সতর্কতা হিসেবে তা যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত কোনো অভাবী বা গরিব ব্যক্তিকে সদকা করে দেওয়াটাই সমীচিন হবে।

তবে মনে রাখা জরুরি যে, ইসলামে সুদ দেওয়া বা নেওয়া—উভয়ই বড় ধরনের অপরাধ। তাই সুদের টাকা সদকা করে দেওয়ার নিয়তে সুদী একাউন্ট খোলা বা সঞ্চয়পত্র কেনা জায়েজ নয়। প্রত্যেক মুসলমানের উচিত এ ধরনের হারামের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকা এবং একান্ত প্রয়োজনে সুদমুক্ত পদ্ধতিতে লেনদেনের চেষ্টা করা।


রেফারেন্স:

—আলমাবসূত, সারাখসী ১২/১৭২; আলমুহীতুল বুরহানী ১০/৩৭৫; আলইখতিয়ার ২/৫৬৮; রদ্দুল মুহতার ২/৩৩৯, ৫/৯৯